মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

কঠোর লকডাউনে চরম সংকটে বেলাবরের সাধারণ মানুষ

প্রদীপ কুমার দেবনাথ / ৩৩৩ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১
করোনায় কঠোর লকডাউনে চরম সংকটে বেলাবরের সাধারণ মানুষ
করোনায় কঠোর লকডাউনে চরম সংকটে বেলাবরের সাধারণ মানুষ। ছবি সংগৃহীত

বেলাব উপজেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী জার্নাল: করোনায় কঠোর লকডাউনে চরম সংকটে বেলাবরের সাধারণ মানুষ। এমনিতেই ঘরে ঘরে ঠান্ডা জ্বর ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তার উপর কর্মহীনতা সৃষ্টি করছে অশান্তি, অভাব আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। উপার্জন না থাকলেও এনজিওর কিস্তি , ব্যক্তি ঋণে জর্জরিত মানুষ।

এছাড়াও বিভিন্ন রোগ আর কঠোর লকডাউন জনজীবনকে কঠিন ভোগান্তিতে ফেলে দিয়েছে। একপ্রকার নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে অধিকাংশ পরিবারে। তার উপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা দেখা দিয়েছে জমি বিরোধ। ছুটির সুযোগে নিজ গৃহে অবস্থান করা মানুষগুলো তাদের সমস্যাগ্রস্ত জমিগুলোর সমস্যা নিরসন করতে আরো বেশি ঝগড়া, হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি সৃষ্টি করছে। সরকারি ঘোষণা থাকলেও একমাত্র দৃশ্যমান দরিদ্র ছাড়া অন্য কেউ ত্রাণের জন্য যাচ্ছে না কোথাও, সরকার নির্ধারিত নাম্বারে অজানা ভয়ে যোগাযোগ করছে না মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এই দরিদ্র শ্রেণি। সরকার নির্ধারিত নাম্বারে ফোন দিয়ে ইজ্জত যাওয়ার ভয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে কেউ কেউ।
করোনায় কঠোর লকডাউনে চরম সংকটে বেলাবরের সাধারণ মানুষ
নাম না প্রকাশ করার শর্তে লক্ষীপুরের এক মধ্যবিত্ত বলেন, ‘বাজান মানুষের খামারে খামারে ঘুইরা ডিম কিইন্না বাজারে বইয়া বেছতাম। এহন শরীর খারাপ আবার লকডাউনের কারণে পারিনা। আমার ঘরে এহন খাওন নাই, ঔষধ নাই।’ দক্ষিণধুরুর এক কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘বিধিনিষেধ আমার লাগি চরম কাল হইয়া খাড়াইছে। আমি ৪ সদস্যের পরিবার লইয়া খুব খারাপ অবস্থায় আছি ভাই। এরপরে কিস্তি দিবার পারছিনা। এর লাগি বাড়ির বাইরে থাহুন লাগে।’ চকমখোলার দিনমজুর কাসেম আলী জানান, ভাই ঠিকমতো অহনে কাজকাম নাই। সরকারি টেহা, পয়সা, চাইল, ডাইল কিচ্ছু পাইনা। আমার বাইত ৭ জন মানুষ। কি যে করি?’ চায়ের দোকানি নূর মিয়া বলেন, লকডাউনে দোকান বন্ধ। ঘরে খাওন নাই। কাম করারও সুযোগ নেই। আমরার লাগি লকডাউনডা অভিশাপ।’ সিএনজি চালক রইছ মিয়া জানায়, সিএনজি নিয়া বাইর অইতে পারিনা। পরিবার পরিজন নিয়া চরম কষ্টে আছি ভাই।’ বাস্তবে এই হাহাকার সর্বত্র। কঠোর এ লকডাউনে নেতাকর্মীরা ও নেই সাধারণ মানুষের পাশে। চারদিকে ক্ষুধার্তদের নিরব কান্না চলছে। বেলাব উপজেলার প্রত্যেক এলাকায় অভাব, অনটনে জর্জরিত মানুষ দিন কাটাচ্ছে নিদারুণ কষ্টে।

অনেকে জানায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জন সাহায্যের নামে তালিকা করে, ভোটার আইডি কার্ড নেয়, ছবি নেয় আবার নানা তথ্য নেয় কিন্তু কিছুই দেয়না। সাধারণ মানুষ পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে কাজ চায় আর লকডাউন চায়না ত্রাণও চায়না। কারও কারও ক্ষোভ স্থানীয় নেতাকর্মী আর জনপ্রতিনিধিদের উপর। তাদের মতে, বছরে একবার যৎসামান্য সাহায্যের ফটোসেশান করে সারা বছর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়া এদের আর কোন কাজ নেই। অথচ ইলেকশন আসলে ওনারা জননেতা আর গরীবের বন্ধু সাজে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!