কাবুলে উদ্ধার অভিযানে ১৮ বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করবে পেন্টাগন

0
32
facebook sharing button

তালেবান কাবুল দখলে নেওয়ার পর আফগান ছাড়তে শুরু করেছেন বিদেশিরা।  বিমানবন্দরে ভিড়ের মধ্যে দুদফা প্রচন্ড হুড়োহুড়িতে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।  এখন হাজার হাজার মানুষ আফগানিস্তান ছাড়তে বিমানবন্দরে অপেক্ষমান। তাদের ফেরাতে ও উদ্ধারে বেসরকারি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাবহার করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ১৮টি বিমান এসব মানুষকে আফগানিস্তানের বাইরে নিরাপদ তৃতীয় কোন দেশে পৌঁছে দেবে।

রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সিভিল রিজার্ভ এয়ার ফ্লিট’ নামের বিশেষ ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

এর আওতায় আপদকালীন সময়ের জন্য বেসরকারি বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্স কোম্পানির বিমান ব্যবহার করতে পারে মার্কিন সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ এই ব্যবস্থা আরোপ করেছিল ১৯৯০-৯১ এবং ২০০৩ সালে ইরাক ও কুয়েত থেকে মানুষজনকে উদ্ধারে।

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ারলাইন্স, অমনি এয়ারলাইন্স এবং হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্স থেকে ১৮ টি বিমান নেওয়া হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বেসরকারি বিমান ব্যাবহারের ফলে সামরিক বিমানগুলোকে কাবুল ও তার আশপাশে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরের হাজার হাজার আফগান নাগরিক দেশ ছাড়ার চেষ্টায় ভিড় করতে থাকে।

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিনে ২৮ হাজারের মতো মানুষকে কাবুল থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, কষ্ট এবং হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছাড়া এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কোন উপায় নেই। আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে এবং এখনো অনেক ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়া মানুষজনের কাগজপত্র যাচাই করা প্রক্রিয়া দ্রুত জন্য দুই ডজন দেশে বিশেষ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, যেসব আফগান যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে আমরা তাদের নতুন আবাসভূমিতে স্বাগত জানাবো।

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান জানিয়েছেন আফগানিস্তানে এখনও এক হাজারের মতো মার্কিন নাগরিক রয়ে গেছেন।

পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে বিমানবন্দর ও তার আশপাশে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে যাদের একটি অংশ ভিড়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে।

এদিকে কাবুল থেকে পালাতে সচেষ্ট লোকজনের হৃদয় বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ছে।  ১৯ আগস্ট দেখা গেছে, এক আফগান বাবা হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের দেয়ালে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এক মার্কিন সৈন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন।  

বিমানবন্দরের ভিড়ে জঙ্গি বাহিনী ইসলামিক স্টেট হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জেমস হিপে বলেছেন, তালেবান মানুষজনকে এখন সারি বেধে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কাজ করছে যাতে করে কাবুল ত্যাগের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের লোক সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।  সেই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে