নরসিংদীর মনোহরদীতে স্বেচ্চাসেবক দলের করোনা হেল্প সেন্টারে ছাত্রলীগের হামলা

1
39

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মনোহরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ এবং হেল্ড সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলায় চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি সুমন রায়, যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন ইসমাইল মিয়াসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। এসময় হামলার ছবি তোলায় ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার দুপুরে মনোহরদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতাকর্মীরা জানায়, বুধবার দুপুরে মনোহরদীর স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের উপস্থিতিতে করোনা রোগিদের জন্য হেল্প সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানের শেষ মুহুর্তে ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় উশৃংখল যুবক লোহার রড, লাঠিও ও বাশ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া দুই সাংবাদিকসহ স্বেচ্চাসেবক দলের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। হামলার সময় ছবি তোলার পর সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে ক্যামেরা ভাংচুরে বাধা দিতে গেলে চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি সুমন রায় ও যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন ইসমাইল মিয়াকে বেধরক মারধোর করে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত চ্যানেল আই এর নরসিংদী প্রতিনিধি আহত সুমন রায় বলেন, বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন সমূহের অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে অতর্কিতভাবে ছাত্রলীগ নামধারী এক দল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে আমি রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেই। সেখানেও কয়েকজন সন্ত্রাসী গিয়ে আমার পরিচয় জেনে আমার উপর হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ভাংচুর করে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করে।

পরে আমাকে ও যমুনা টিভির ক্যামেরা পার্সন ইসমাইল হোসেনকে আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়। সেখানেও সন্ত্রাসীরা গিয়ে যমুনা টিভির ক্যামেরা ভাংচুর করে এবং ইসমাইল হোসনকেও পূনরায় মারধোর করে গুরুতর আহত করে। মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজন সম্পর্কে পুলিশ অবগত ছিল না। তবে অতর্কিত হামলায় দুজন সাংবাদিক আহতের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিক জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে