মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সুযোগে মাছ ও ফল চাষে সফল আশরাফুল

প্রদীপ কুমার দেবনাথ / ৪৫০ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সুযোগে মাছ ও ফল চাষে সফল আশরাফুল
উদ্যোক্তা আশরাফুল। ছবি: ফেইসবুক

বেলাব প্রতিনিধি, নরসিংদী জার্নাল: অল্প বয়সের টগবগে তরুণ আশরাফুল ইসলাম। ২১ বছর বয়সেই সে একজন সফল মৎস চাষী ও বাহারী ফলের বাগানের সফল উদ্যোক্তা। হাবিবুল্লাহ্ বাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এই যুবক করোনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির মাঝে উদ্যোগ নিলেন কিছু একটা করার। বাড়ির পাশে প্রথমে তিন বিঘা জমির মাটি কর্তণ করে পুকুর তৈরি করলেন। সেই পুকুরে অনেক জাতের মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্প জাতীয় মাছ, সরপুটি মাছ ইত্যাদি) চাষ করলেন। পাশাপাশি উঁচু জমিতে তিনি ড্রাগন, উন্নত লেবু, তিন শতাধিক লটকন চারার বাগান, দেশী ও পাকিস্তানি জাতের উন্নত মালটা, হাইব্রিড জাম্বুরা, বিদেশী নারিকেল, উন্নত জাতের বারোমাসি আম, বাহারি জাতের জামরুল, কতবেলসহ অন্যান্য উন্নত ফলের এক বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপযুক্ত মাটি, সুন্দর পরিবেশ আর পরিকল্পিত খাবার ইত্যাদি যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে এক বছরেই উৎপাদন করলেন ঈর্ষনীয় উন্নত ফলে গাছ পরিপূর্ণ, পাশাপাশি বড় বড় মাছও উৎপাদন করলেন তিনি। ফল ও মাছ মিলিয়ে বিক্রি করলেন প্রায় ২০) লক্ষাধিক টাকা। এবার তিনি আরও তিন বিঘা জমি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে মাছ চাষ করছেন। এবার অন্যান্য মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া এসবও চাষ করছেন। বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে উন্নত মাছের পোনা সংগ্রহ করার পর ইউটিউব, উপজেলা মৎস ও প্রাণীজ সম্পদ অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে এদের খাবার সংগ্রহ করেন ও নিয়মাবলি মেনে পরিচর্যা করেন।

তাছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস ও বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ফল গাছের চারা সংগ্রহ, রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পুরো বাড়ির এরিয়ায় বৃহৎ বাগান গড়ে তুলেছেন। তার পিতা সিরাজুল ইসলাম ভেন্ডার জানান, প্রায় ২ বছর যাবত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। প্রথমবার বাড়িতে এসেই সে মাছচাষ ও বাগান করার প্রতি ঝুঁকে বসে। তার উৎসাহ দেখে আমিও সমর্থন করি। কয়েকদিনের মধ্যেই সে পরিকল্পিত মাছচাষ ও উন্নত ফল চাষে সফল হয়। এখন বাগানে ফল আর পুকুরে মাছ দুটোই আমাকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে আশরাফুল ইসলাম নরসিংদী জার্নালকে বলেন, স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ, ইউটিউব ও অনলাইনে প্রাপ্ত নির্দেশাবলি আমার সফলতার মূল কারণ। আমি সময় পেলেই উন্নত মৎস খামারিদের সাথে যোগাযোগ করি এবং উন্নত জাতের ফলের চারা সংগ্রহ করি। ইতিমধ্যে মাছ ও ফল দুটোই উৎপাদন হচ্ছে। এ বছর মাছে ৩০ লক্ষ টাকা ও ফলে ৪ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা রাখি। এখনও কিছু জাতের ফল আসার সময় হয়নি। আগামী বছর বা তার পরের বছর এসব গাছে ফল ধরলে অনেক টাকা বিক্রি হবে বলে আশা রাখি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর আর্থিক সাপোর্ট পেলে আরও বেশি বাগান ও মাছ চাষের আশা রাখি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!