স্কুল কলেজ মাদ্রাসা খুলতে বৈঠক রোববার

0
20

করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়ায় বুধবার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে পূর্বঘোষিত বৈঠকটি হয়নি। এটি ৫ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে ১৫ অক্টোবরের পর সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিতে ৪৩ পাবলিক ও ৯৬ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এতে টিকা দেওয়াসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদনটি না পাওয়ায় এ সংক্রান্ত বৈঠকটি পেছানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) এটি পাওয়ার কথা আছে। আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সংশ্লিষ্টদের অন্তত প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার পর ১৫ দিন পার হলে ক্যাম্পাস খোলা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রচলিত পন্থা অবলম্বন করবে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ইউজিসি সমন্বয় করবে।

২৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সেখানে ১৫ অক্টোবরের পর বা ১৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ৩০ সেপ্টম্বরের মধ্যে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। টিকা দেওয়া না হলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে না।

একই বৈঠকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খোলার ব্যাপারে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) ফিরতি বৈঠকে আলোচনার কথা ছিল। আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়। তাতে সংক্রমণ কত শতাংশে নেমে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে সেটি জানাবে কমিটি।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাসংক্রান্ত বিগত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউজিসি সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার নির্দেশনা পাঠিয়েছে। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে। এতে যেসব তথ্য চাওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকা নিতে নাম নিবন্ধন করেছেন; কতজন প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের তারিখ পাননি; কতজন টিকা নেননি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। পাশাপাশি এতে বিদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তার নাম-পদবিসহ জানাতে বলা হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য দুটি দিকের উন্নতি দরকার। একটি হচ্ছে, করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশে নেমে আসা, আরেকটি টিকা সম্পন্ন হওয়া। সংক্রমণের দিকটি প্রাকৃতিক বিষয়।

তাই আমরা চাচ্ছি, সবাইকে টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে। টিকা দেওয়া শেষ তারা নিজেদের দায়িত্বে ক্যাম্পাস খুলে দেবে। কত শতাংশ শিক্ষার্থীকে তারা ক্যাম্পাসে ও হলে অনুমোদন করবে সেটাও তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আলোচনা হয়েছে, সিনিয়রদের এনে অবস্থা বুঝে পরে বাকিদের নিয়ে আসার ব্যাপারে। টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করার পর প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ১৫ দিন অপেক্ষার ব্যাপারেও ইতঃপূর্বে আলোচনা হয়েছে।

২৬ আগস্টের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে পরিকল্পনা তৈরি করার কথা, যা আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ওই বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামলেই খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা উঠেছিল। এরপরই এ ব্যাপারে কারিগরি পরামর্শক কমিটির সম্মিলিত মতামতের প্রশ্ন আসে। ওই দিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে